হাবিবুর রহমান, ঢাকা: বাংলাদেশে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। ঈদ আনন্দের দিন হলেও বিগত বছরগুলোতে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব পালনে ছিল নানা বিধি-নিষেধ তথা কড়াকড়ি। ছিল ভয়, শঙ্কা ও গ্রেফতারির আতঙ্ক। সোমবার সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ঈদের আনুষ্ঠানিকতা। কুশল বিনিময়, কোলাকুলি, স্বজনের কবরে শ্রদ্ধা জানানো, আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে দেখা সাক্ষাৎ করে আজ সময় পার করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
এদিকে ঢাকায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক ও মোকাব্বিরের দায়িত্ব পালন করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন ক্বারী মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। এতে অংশগ্রহণ করেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মানুষের মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, সব প্রতিকূলতার সত্ত্বেও সেই ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। সোমবার জাতীয় ঈদগাহে ঈদ-উল-ফিতরের নামাজের পর দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অন্যদিকে, এ বছর ঈদকে আরও উৎসবমুখর করতে আনন্দ মিছিলের আয়োজন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। এই মিছিলে ঢাকার ৪০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হয়, যা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আরও বর্ণিল হয়ে ওঠে। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানী ঢাকার শেরে বাংলা নগরের পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে ঈদ-উল-ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাত শেষে সকাল ৯টায় সেখান থেকেই শুরু হয় বর্ণাঢ্য ঈদ আনন্দ মিছিল।