নতুন বছরের সূচনালগ্নে ক্রিস্টোফার লংগো একটি ফোন পান তার শ্বাশুড়ির কাছ থেকে। আর এ ফোনেই শ্বাশুড়ি তাকে দুঃসংবাদটি জানান, ‘আমি জানি না কিভাবে এটি বলা উচিত, কিন্তু শিশুটি আমাদের ছেড়ে চলে গেছে।’

ক্রিস্টোফারের স্ত্রী ৩৫ বছর বয়সী লিন ২২ সপ্তাহের গর্ভবতী ছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় শিশুটির হৃৎস্পন্দন আর পাওয়া যাচ্ছে না। আর এ কারণেই তারা শিশুটিকে মৃত বলে মনে করছেন। পরবর্তীতে হাসপাতালে পৌঁছে ক্রিস্টোফার আবার শিশুটির আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করার অনুরোধ করেন। এর কারণ, তার স্ত্রী সুস্থ ছিলেন এবং তার কোনো জটিলতা না থাকায় শিশুটির বেঁচে থাকার কথা ছিল। আর তাই শিশুটির মৃত্যু তাকে খুবই দুঃখিত করেছিল।
বহু পরীক্ষা নিরীক্ষায় শিশুটির জীবনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর তাই পরের দিন মৃত শিশুটিকে তার মায়ের পেট থেকে অপসারণ করা হয়।

এ বিষয়টি ক্রিস্টোফারকে এতই দুঃখিত করে যে, তিনি শোক প্রকাশের ব্যতিক্রমী কোনো উপায় খুঁজছিলেন। তিনি একজন দৌড়বিদ এবং ইতিবাচক উপায়েই এ শোক কাটিয়ে ওঠার উপায় অনুসন্ধান করছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ম্যারাথন দৌড়ের মাধ্যমেই এ শোককে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন। তার এ দৌড়ের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো অন্যরা যেন নিরাপদ গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করার জন্য উৎসাহিত হয় সে জন্য প্রচারণা চালানো।

শিশুটি যেহেতু গর্ভে আসার ২২ সপ্তাহ পর মারা গিয়েছে তাই তিনি শিশুটির শোকে মোট ২২টি ম্যারাথন দৌড় দেবেন বলে জানান। বর্তমানে তিনি দৌড় শুরু করেছেন এবং তার এ দৌড়ের বিষয়টি অনলাইনে আপডেট করছেন।