দীপাবলিতে মোমবাতির আলোর রোশনাইয়ে ফিকে হয়ে গেছে প্রদীপের শিখা!

0

দিগবিজয় মাহালী, পশ্চিম মেদিনীপুর: কয়েকদিন পর আলোর উৎসব দীপাবলি। একসময় কালীপুজোয় আলোর রোশনাইয়ে বাঙালির ঘর আলো করে রাখতো মাটির তৈরি প্রদীপ। বর্তমানে সেই মাটির প্রদীপ বিলুপ্তির পথে। বিগত কয়েকবছর ধরে বাজার দখল করেছে মোমবাতি।  ডিজিটাল যুগে মোমবাতির সাথে লড়াইয়ে ক্রমশ  ফিকে হয়ে যাচ্ছে হাতের তৈরি মাটির প্রদীপ। এর জেরে একসময়ের একমাত্র রুজিরোজগারের পথ বন্ধের মুখে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা থানার বাচকা গ্রামের কুমোরশিল্পীদের। বাজারে আগের মতো চাহিদা নেই, কঠোর পরিশ্রম করে খরচটুকুও জোটে না কুমোরশিল্পীদের। এই গ্রামের অধিকাংশ পরিবারই আগে মাটির তৈরি প্রদীপ সহ নানান মাটির জিনিস তৈরিতে যুক্ত ছিলো। বর্তমানে সেই সংখ্যাটা হাতেগোনা গুটিকয়েক। বংশপরম্পরা এবং পূজোর মুখে রুজির তাগিদে এখনও মাটির কাজে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন বাচকা কুমোর পাড়ার কুমোরশিল্পী ষাটোর্ধ্ব মন্মথ পাল। একদিকে মাটির অভাব, তার উপর বাজার ছেয়েছে মোমবাতি, বেড়েছে খরচও, জোড়া ফলায় বিদ্ধ গ্রামের একমাত্র দক্ষ কুমোরশিল্পী মন্মথ পাল। যেখানে আগে কালীপূজোয় এক একটি মাটির প্রদীপ ৩ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হতো এবং ঘর থেকেই মহাজন এসে নিয়ে যেতো, বর্তমানে ছবিটা ভিন্ন। এখন এক একটি প্রদীপ সর্বোচ্চ ১ টাকায় বিক্রি করতে হয়, তাও আবার নিজেদেরকে দোকানে দোকানে গিয়ে দরদাম করে, এমনটাই জানান কুমোরশিল্পী মন্মথ পাল। একসময় পূজোর আগের কয়েকটা দিন নাওয়া খাওয়ার ফুরসৎ মিলতো না মন্মথ পালের মতো মাটির শিল্পীদের। এখন কাজের গতি অনেকটাই মন্থর হয়েছে। বাজারে নিত্যনতুন আলোর রোশনাই। গ্রামগঞ্জে এখনও মাটির প্রদীপের স্বল্প চাহিদা থাকলেও শহরাঞ্চলে তা খুবই কম ব্যবহার হয়। এখন আর শুধু কুমোরশিল্পী হিসাবেই নিজেদের বেঁধে রাখতে চাননা মন্মথবাবুরা, মন দিতে হচ্ছে হাতে থাকা স্বল্পকিছু জমি নিয়ে চাষবাসেও। তাই এখন দীপাবলিতে মোমবাতির আলোর রোশনাইয়ে ফিকে হয়ে গেছে প্রদীপের শিখা।