পুজোয় নতুন জামা চাই, ছেলের বায়না থামাতে গলার নলি কাটার চেষ্টা মায়ের

0
10

এএনএম নিউজ ডেস্কঃ টানা আট দিন নিজের ১২ বছরের ছেলেকে খেতে না দিয়ে ঘরের মধ্যে আটকে রাখার পর অবশেষে ধারালো কাঁচ দিয়ে গলার নলি কেটে খুনের চেষ্টা নিজের  মা। চিৎকার ধস্তাধস্তি করে কোনরকমে গভীর রাতে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে আসে। মায়ের সাথে ধস্তাধস্তি তে হাত পা কেটে রক্ত ঝরছে তখন।বাচ্চাটির এমন অবস্থা দেখে হইচই পড়ে যায় থানার ওসি থেকে সব পুলিশের মধ্যে ।তড়িঘড়ি তাকে তুলে মুখে জল দিয়ে প্রথমিক চিকিত্সার পর জ্ঞান ফিরলে কাঁদতে কাঁদতে সে মা এর সব কু কীর্তির কথা জানায় পুলিশ কাকুদের।যা শুনে প্রথমত শিউরে উঠেছিলেন থানার পুলিশ মহল।আসলে বাচ্চাটি বুঝেছিল প্রাণে বাঁচার একটাই উপায় পুলিশের কাছে পৌঁছাতে হবে।সম্প্রতি পুলিশ ও লিগ্যাল অ্যাক্ট ফোরারাম আইনি সচেতনতা শিবির করেছিল এমন পড়ুয়াদের নিয়ে।তারই সুফল এটা ।তাই সে পৌছেছে বলে জানায়। জানা গেছে পূজোয় ভালো জামা প্যান্ট কিনতে চেয়ে মা এর কাছে বায়না ধরেছিল পূর্ব মেদিনীপুরের মারিশদা থানা এলাকার রানিয়া গ্রামের সুশোভন সামন্ত।সপ্তম শ্রেনীর মেধাবী ছাত্র সুশোভন ।বাবা গদাধর সামন্ত কর্মসূত্রে রাজমিস্ত্রির কাজে দীর্ঘ দিন ধরে কেরলায় থাকেন। মা বিড়ি শ্রমিক ।পূজোর কটা দিন আগে বাবা কিছু টাকা অ্যাকাউন্টে পাঠান জামা কাপড় কেনা সহ পূজোর খরচ খরচার জন্য ।ফোনে সে কথা বাবা এক মাত্র ছেলেকে জানিয়েছিল মন খারাপ করতে না;কাজের চাপে বাবা ছুটি পাচ্ছে না তাই পূজোয় ফিরতে পারবেনা বাড়ী ।এরপর মা কে জামা প্যান্ট কিনে দিতে বললে কম দামের জামা প্যান্ট কিনে দেয় মা।তাতে ছেলে অখুশি হয়।ভালো একটা জামা প্যান্ট এর সেট কিনে দেওয়ার বায়না ধরে ।মা পাপিয়া তাতে রাজি হয়নি।কারণ বিড়ি বাধার কাজ সহ সংসারে কিছু দেনা ছিল।সেসব শোধ দিতে হবে ,তাই ভালো কিছু কিনে দিতে পারবেনা বলে জানিয়ে দেয় মা।কিন্তু বাচ্চাটি মা কে আড়াল করে মামার সাথে যোগাযোগ করে অনলাইনে জামা কেনার জন্য এটিএম কার্ড ও সিসিভি নং বলে দেয় ।এই পুরো ঘটনাটি পরে জানতে পেরে মা পাপিয়া ক্রুদ্ধ হয়ে কাউকে কিছু না বলে ছেলেকে এমন শাস্তি দেন। পুরো পুজো কেটে যায়, বাড়ীর কোনে থাকা খানিকটা চাল ও মুড়ি মায়ের অজান্তে ছিল তা  খেয়েছিল ছেলে ,তাতেও আরো রেগে মারধর করেছিল বলে অভিযোগ।অবশেষে বিজয়া দশমীর দিন খিদে সহ্য করতে না পেরে কোন রকমে বাড়ীর বাইরে বেরিয়ে কিছুদূরে পিসির বাড়ীতে দুমুঠো ভাত খেয়ে ছিল সুশোভন।তারপর বাড়ী ফিরলে উগ্রচণ্ডা রূপ ধরণ করে মা, আয়নার কাঁচ ভেঙে গলার নলি কেটে খুনের করতে যায় মা পাপিয়া।বাচ্চাটি মায়ের হাতটি ধরে ফেলে চেঁচাতে থাকে।প্রতিবেশীরা ছুটে আসে,কোনরকমে ছিটকে দৌড় দেয় থানায়।