বেহাল অঙ্গনওয়াড়ি শিক্ষা ব্যবস্থা ! জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাচ্চাদেরকে কেন্দ্রে পাঠাতে চাইছেন না অভিভাবকরা

0
28

হরি ঘোষ ,জামুরিয়া :অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি ভগ্নপ্রায় ।তাই নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রান্না করলেও বাচ্চাদের জীবনের ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব নয়। তাই তাদেরকে রাখা হয় ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের থেকে কিছুটা দূরে পাড়ার কমিউনিটি হলে।এমনই ছবি উঠে এল এএনএম নিউজ এর পর্দায়।ঘটনাটি আসানসোল পৌর নিগমের অন্তর্গত জামুরিয়া বোরো ১এর জামুরিয়া গ্রাম রুইদাস পাড়ায়।আইসিডিএস কেন্দ্রটির এমনই অবস্থা যেকোন মুহূর্তে ছাদ ধসে পড়ে যেতে পারে।বর্ষাকালে ছাদের থেকে জল পড়ে এবং জল ভরে যায় নিচের মেঝেতেও।তাই এক হাটু জলে রান্না করতে হয় দিদিমণিকে।পরিবেশ এতটাই অস্বাস্থ্যকর এলাকার যে কোন পরিবার বাচ্চাদেরকে আইসিডিএস সেন্টার পাঠাতে চান না।

দিদিমনির অনুরোধে তাদেরকে এক প্রকার বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আইসিডিএস সেন্টারে পাঠানো হয়।বর্তমানে বাচ্চাদেরকে এই সেন্টারে না বসিয়ে কিছুটা দূরে পাড়ার একটি কমিউনিটি হলে পড়ানো হয়।বর্তমানে কমিউনিটি হলে কাজ চলায় ভেতরে রাখা আছে সিমেন্ট ,রড প্রভৃতি নির্মাণসামগ্রী ।ফলে বাচ্চাদেরকে ওই নোংরা পরিবেশে রাখতে হয় ।কখনো কখনো ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটে যায় ।আইসিডিএস সেন্টারের দায়িত্বে থাকা মালতি দেবী জানান দীর্ঘ ১০ বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এই সেন্টারে অভিযোগ করা হচ্ছে।এখনো পর্যন্ত কোন লাভ হয়নি ।তাই নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি রান্না করেন। কিন্তু বসে খাওয়া দেওয়ার জায়গা না থাকার জন্য বাচ্চাদেরকে খাবার টিফিন বক্সে দিয়ে দেওয়া হয়।অনেক সময় অভিবাবকরা বাচ্চাদের অঙ্গনওয়াড়ি পাঠাতে চাই না ।অনেক অনুরোধ করে বাচ্চাদেরকে এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে আনা হয় বলে জানান মালতি দেবী ।

অভিভাবক কল্যাণী রুইদাস জানান অঙ্গনওয়াড়ির এই অবস্থা দেখে এলাকার বহু বাচ্চাকে অন্যত্র পড়াশোনা করার জন্য পাঠানো হয়েছে।প্রশাসনকে বলে কোনো লাভ না হওয়ায় এবার তারা এই অঙ্গনওয়াড়ী সেন্টার বাচ্চা পাঠানো বন্ধ করে দেবেন ।স্থানীয় বাসিন্দা বাবলু রুইদাস জানান ২০১৮ সালে আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি এই রুইদাস পাড়াতে এসে তিন মাসের মধ্যে অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারটি বানিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ।কিন্তু বছরখানেক হয়ে গেল এখনো পর্যন্ত কোন কিছুই হয়নি এই অঙ্গনওয়াড়ী সেন্টার ।

এই বিষয় নিয়ে আসানসোল পৌরনিগমের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি কে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান ওই এলাকায় কিছু সমস্যা রয়েছে। কিন্তু পৌরনিগমের পক্ষ থেকে যতদূর উন্নয়ন করা সম্ভব তারা করেছে ।কিন্তু এলাকার বিধায়ক ও সাংসদ কোন প্রকার এলাকার উন্নয়ন করেননি ।তাছাড়া লোকসভা ভোটের জন্য চার মাস পৌরনিগমের সমস্ত রকম উন্নয়ন পিছিয়ে পড়েছে।