অন্ধকার নামলেই ছড়ায় আতঙ্ক: আতঙ্কের নাম ‘ঠাকুর’!

0
4

সুদীপ ব্যানার্জী, আলিপুরদুয়ার: দিনের আলো ফুরিয়ে অন্ধকার নামার সাথে সাথে আতঙ্ক নেমে আসে গ্রামে,  এ কোনও ভুতুড়ে আতঙ্ক নয়, এ হলো ওই গ্রামের ভাষায় ‘ঠাকুর’ । এমন ঘটনা প্রায়শই ঘটে ফালাকাটার ধুলাগাও গ্রামে। এই গ্রামে  রয়েছে উচ্চ বিদ্যালয়,  রয়েছে দোকানপাট। গ্রাম্য এলাকা হলেও বেশ জমজমাট পরিবেশ, তবে এই গ্রামেই রাত হবার সাথে সাথে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়তে থাকে। কারণ হাতিরা হানা দেয় গ্রামে, লোভ একটাই জমির ফসল। জমির ফসলের টানে প্রায় দুই দিন অন্তর অন্তর গ্রামে চলে আসছে, জমির ফসল খেয়ে সাবাড় করে দিচ্ছে হাতির দল। বন দপ্তর এই গ্রামমুখো হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এলাকার বাসিন্দা অঞ্জলি দাস জানান, “সন্ধে থেকে আমরা হাতির ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে থাকি। কখন আসে তার কোন ঠিকঠিকানা নেই। আমাদের ভুট্টা ক্ষেত দিয়ে নিজেদের রাস্তা বানিয়ে হাতির দল যাতায়াত করছে। ক্ষেত তছনছ করে দিচ্ছে হাতি। বন দপ্তরের কেউ আসে নি। রাত ৮টার সময় থেকে আর আমরা বের হই না বাড়ি থেকে, খুব ভয় করে।”

জানা গেছে,  হাতির আনাগোনা সব থেকে বেশি দক্ষিণ ধুলাগাও এলাকায়। ওই এলাকায় রয়েছে প্রায় ৩০০ টি পরিবার। রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে হাতির দল। এলাকার বাসিন্দা চিরঞ্জিত রায়, পেশায় কৃষক। তিনি জানান, ” দুশ্চিন্তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমাদের এলাকায় হাতি নিয়ে কোন দিনও সচেতনতা শিবিরও করা হয়নি। আমরা কোনও নিমন্ত্রণ বাড়ি গেলে, বাড়ি ফেরা নিয়েও দুশ্চিন্তা হয় যে. ঠিক ভাবে ফিরতে পারবো তো?  এই ভাবনাগুলো আসতেই থাকে মনে। কৃষি জমি দিনের পর দিন নষ্ট করে দিচ্ছে, কী করবো বুঝতেই পারছি না।”

এই বিষয়ে মাদারিহাট রেঞ্জার খগেশ্বর কাজি বলেন, ” ধুলাগাও এলাকায় অত হাতি যায় না। দক্ষিণ খয়েরবাড়ি থেকে মাঝে মধ্যে একটি হাতি বের হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তরা আবেদন করলে সরকারি নিয়ম মেনে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।”