রোমান্স ট্যুরিজম : ধনী বয়স্ক নারীর প্রেম ও যৌনতার সঙ্গী কেনিয়ার দরিদ্র যুবক

0
3

এএনএম নিউজ ডেস্ক : ২০০৯ সালে সোফি অ্যামাইল ক্লোগার্ট নামের এক ধনী নারী গেলেন কেনিয়ার মোম্বাসায়। তিনি অলাভজনক অ্যাকশনএইড এর কিছু কাজ করতে গিয়েছিলেন সেখানে। তার দিনের কাজ ছিল দারিদ্র্য বিমোচনে নানা কর্মসূচি দেওয়া। আর রাতে বিমুগ্ধতা নিয়ে অলিগলিতে ঘুরতেন গল্পের খোঁজে।
কয়েকটি সমুদ্রসৈকতে ঘুরে একটি বিষয় সোফির নজরে পড়ল। সেখানে বহু ইউরোপিয়ান বয়স্ক নারীরা স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে ব্যাপক হইচই করে সময় কাটান। যখন তাদের দলে ভিড়লেন তখন বুঝতে পারলেন, এই পর্যটক নারীরা এখানে রোমান্স ট্যুরিজম উপভোগ করছেন। ধনী বয়স্ক একাকী নারী-পুরুষরা দরিদ্র দেশে ঘুরে ঘুরে নানা মানুষের সঙ্গে উপভোগ করেন। বিনিময়ে উপহার, খাবার এমনকি নগদ অর্থও বিলানো হয়। অধিকাংশ পর্যটকই জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, পূর্ণ ইউরোপ এবং তুরস্কের ধনী ও বয়স্ক নারী।
এ বিষয়টি নিয়ে ডকুমেন্টরি করার চিন্তা করলেন ক্লোগার্ট। এসব পর্যটক নারী-পুরুষদের সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সাথে মিশে তিনি দেখলেন, এরা সবাই দরিদ্র এবং অর্থ বা খাদ্যের বিনিময়ে পর্যটকদের মনোরঞ্জনে প্রস্তুত।
মোম্বাসার সৈকতে গেলেই দেখা যাবে, কোনো সাদা বয়স্ক নারীকে ঘিরে রয়েছেন কয়েকজন স্থানীয় যুবক। তারা আনন্দ করছেন।
এখানকার হোটেলগুলো ইউরোপিয়ান পর্যটকদের ভিড়ে ব্যস্ত। সব একাকী নারী-পুরুষ এখানে এসেছেন। হোটেলগুলো তাদের মেহমানদের সঙ্গে স্থানীয় কাদের খাতির তার খোঁজ-খবর রাখেন নিয়মিত।
সোফি একজন নারীকে খুঁজে নিলেন যার নাম লুইসি। তাকে জানালেন এখানকার ‘ভালোবাসা’ নিয়ে গল্প তৈরি করতে চান তিনি। লুইসি মিষ্টি হেসে জানালেন, এখানে ভালোবাসার অস্তিত্ব নেই। এই নারী ১৯৯৭ সাল থেকে টুরিস্ট গাইড হিসাবে কাজ করছেন। তিনি স্থানীয় বহু নারী-পুরুষকে দেখেছেন পর্যটকদের সঙ্গে রোমান্স করতে। কিন্তু নিজে কখনো তাতে জড়াননি। লুইসি নিজেও এক কেনিয়ান পুরুষকে ভালোবেসে ঘর বাঁধেন। তাদের সন্তানও হয় একটি। কিন্তু প্রতারণা ধরতে পেরে বিচ্ছেদ নিয়েছেন তিনি।
এখানকার অধিকাংশ পুরুষই দরিদ্র ও একাকী। তাই পর্যটকদের রোমান্স সঙ্গী হলে তাদের খাবার জোটে এবং থাকারও ব্যবস্থা হয়। তাই এ কাজ করতে তাদের কোনো সমস্যা নেই।
রোমান্সের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই থাকে সেক্স। সে ক্ষেত্রে সরাসরি নগদ অর্থ প্রদান করেন নারীরা। এক নারী জার্মানি থেকে বছরে দুইবার কেনিয়া আসেন। প্রতিবার তিন সপ্তাহ করে থাকেন এবং একই যুবকের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি এসেই ওই যুবকের হাতে অর্থ তুলে দেন যাতে টানা তিন সপ্তাহের যাবতীয় খরচ চলে। বিদায়ের সময় আরো কিছু অর্থ দেন তিনি।