বাংলাদেশে ছাত্রলীগের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বিস্মিত আ.লীগ

0
8

হাবিবুর রহমান, ঢাকা: বাংলাদেশে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনায় বিস্মিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা। গত সোমবার ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর পদবঞ্চিত ও পদকাঙ্ক্ষিত নেতাকর্মীদের সংবাদ সম্মেলনে সংঘর্ষ, কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া ও না-পাওয়াকে কেন্দ্র করে ‘প্রতিপক্ষের’ বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এক পক্ষের বিরুদ্ধে আরেক পক্ষের বিস্ফোরক মন্তব্য ও কমিটি ভেঙে দিতে পদবঞ্চিতদের ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়ার ঘোষণার ঘটনায় তারা বিস্মিত হন। ভ্রাতৃপ্রতিম এ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সদ্য ঠাঁই পাওয়া কয়েকজনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কয়েকজনকে অবাক করেছে। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কমিটি ঘোষণার পর ছাত্রলীগের কয়েক নেতাকর্মীর মারামারির ঘটনা শুনে মর্মাহত হন বলে জানায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্র।

ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনের প্রায় এক বছর পর নানা যাচাই-বাছাই শেষে পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর কমিটিতে অছাত্র, রাজাকার পরিবার, বিএনপি পরিবারের সদস্য, জামায়াতের ছাত্রসংগঠন শিবির, বিবাহিত ও চাকরিজীবীদের শীর্ষ পদে রাখার যে অভিযোগ উঠেছে, তাতেও বিস্ময় প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব। বিতর্কিত ও সংগঠনের মৌলিক আদর্শবিরোধীরা কীভাবে কমিটিতে ঠাঁই পেলেন, কারা তাদের ছাত্রলীগের মতো ঐতিহ্যবাহী সংগঠনে অনুপ্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছেন-এমন প্রশ্নও শীর্ষ নেতাদের। দেশের প্রবীণতম এ ছাত্রসংগঠনের সাবেক নেতারাও নতুন কমিটিতে বিতর্কিতদের ঠাঁই পাওয়ায় বিস্মিত। তবে ছাত্রলীগের অভিভাবক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদপ্রাপ্ত সবার বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খোঁজ নিতে গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশও দেন বলে জানায় গণভবনের একটি সূত্র।

অন্যদিকে গত সোমবার পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর পদকাঙ্ক্ষিত ও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের সংবাদ সম্মেলনে মারামারির ঘটনায় আহতরা মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। তারা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৩০১ সদস্যের নতুন কমিটির সবাইকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার পাশাপাশি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাস ছাড়া দলের অন্য কোনো নেতার আশ্বাস মেনে নেওয়া হবে না উল্লেখ করে প্রতিবাদকারীরা বলেন, শুধু শেখ হাসিনা নিজে এ ঘটনার বিচার করলে মেনে নেবেন তারা। আজ বুধবার দুপুর ১টায় রাজু ভাস্কর্যে মানববন্ধন করেছে তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের সভাপতি লিপি আক্তার এ প্রসঙ্গে বলেন, তদন্ত কমিটি মানি না। যারা হামলা করেছে, তাদের দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শোভন-রাব্বানীর প্রত্যক্ষ নির্দেশে আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। আবার তারা হামলাকারীদের দিয়ে তদন্ত কমিটি করেছে। ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার আড়াই মাস পর গত বছরের ৩১ জুলাই রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত হয়। ওই দিন গণভবন থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাদের নাম ঘোষণা করেন।