এএনএম নিউজ ডেস্ক: মহিলাদের মসজিদে প্রবেশ ও প্রার্থনা করতে দেওয়ার আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন এক মুসলিম দম্পতি। মঙ্গলবার তাঁদের আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হবে।

গত বছর কেরলের শবরীমালা মন্দিরে সববয়সী মহিলাদের প্রবেশ করতে দিতে হবে বলে নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি মসজিদে প্রার্থনা করার ক্ষেত্রেও মহিলাদের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর বিরোধিতা করে। আর এতেই অনুপ্রাণিত হন মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা ইয়াসমিজ জুবের আহমেদ পিরজাদে ও তাঁর স্বামী জুবের আহমেদ পিরজাদে। এরপরই মসজিদে ঢোকার অনুমতির জন্য দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলেই সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।

এবিষয়ে কোর্টে জমা দেওয়া আবেদনে তাঁরা দাবি করেছেন, “মহিলাদের মসজিদে ঢুকতে না দেওয়ার প্রথাটি বেআইনি ও অসাংবিধানিক। পাশাপাশি এই বিষয়টি ভারতীয় সংবিধানে উল্লেখিত ১৪, ১৫ ২১, ২৫ এবং ২৯ নম্বর ধারার বিরোধী।” একইসঙ্গে তাঁদের দাবি, ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হজরত মহম্মদ মহিলাদের মসজিদে প্রবেশে যেমন বিরোধিতা করেননি, তেমনি নিষেধ করা হয়নি পবিত্র কোরানেও। তাঁদের কথায়,” কোরানে কোথাও পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে বিভাজন করা হয়নি। সেখানে শুধুমাত্র বিশ্বাসের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু, এখন ইসলাম এমন একটি ধর্মে পরিণত হয়েছে যেখানে নারীদের নির্যাতিত হতে হচ্ছে।”

বর্তমানে জামাত-ই-ইসলামি ও মুজাহিদ গোষ্ঠীগুলির অধীনে থাকা মসজিদগুলোতে শর্তাসাপেক্ষে মহিলাদের প্রবেশ করার অনুমতি থাকলেও সুন্নি সম্প্রদায়ের মসজিদে নেই। এমনকী যেখানে আছে সেখানেও পুরুষদের সঙ্গে একই দরজা দিয়ে মসজিদে ঢুকতে বা বের হতে পারেন না মহিলারা।

গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে কেরলের শবরীমালা মন্দিরে আয়াপ্পা স্বামীকে দর্শনের জন্য সববয়সী মহিলাদের প্রবেশ করতে দিতে হবে বলে নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। বিভিন্ন নারী সংগঠনগুলি ও কেরল সরকারের পক্ষ থেকে এই রায়কে স্বাগত জানানো হলেও বিরোধিতায় নামেন আয়াপ্পা ভক্তরা। এর জেরে রাজ্যব্যাপী উত্তেজনারও সৃষ্টি হয়। যদিও পরে পিছপা হতে বাধ্য হন আয়াপ্পা ভক্তরা।