এএনএম নিউজ ডেস্ক: গোটা চৈত্র মাস চরম ব্যস্ততায় কাটছে হাতিবাগান, নিউ মার্কেট, গড়িয়াহাটের ব্যবসায়ীদের। চৈত্র সেলের হাওয়া শপিংমল, পোশাক, জুতোর দোকানগুলিতেও। কাজেই বিশেষ ছাড়ের বিজ্ঞাপন টাঙাতেই উপচে পড়েছে ভিড়। বিক্রেতাদের নাওয়া–খাওয়া ভোলার জোগাড় খদ্দের সামলাতে। সামনেই পয়লা বৈশাখ। বেলা বাড়তেই পশরা সাজানো ‌শুরু করতে হয়। দুপুর থেকে ক্রেতাদের আনাগোনা। রোদ পড়তে না পড়তে ঠাসা ভিড়, গুঁতোগুঁতি শুরু। সস্তায় পুষ্টি পেতে ফুটপাথের দোকানগুলিতে ঠেলাঠেলি। একজনের হাত টপকে আরেকজনের হাত চলে যাচ্ছে দোকানে রাখা কুর্তি, শাড়ির ওপর। গরমের হাঁসফাঁস অবস্থাকে তুড়ি মেরে উড়িয়েই চলছে চৈত্র সেলের কেনাকাটা। পোশাকের পাশাপাশি সুতির গামছা এবং রুমালের চাহিদাও রয়েছে।
খাদি, হ্যান্ডলুম, লিনেনের কাপড়, সুতির পোশাকের পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায়। ভীষণ গরমে, প্রচণ্ড রোদেও বেশ আরামদায়ক এই ধরনের কাপড়। শাড়ি হোক বা কুর্তি, কিংবা ছেলেদের শার্ট, পাঞ্জাবি এই কাপড়ের তৈরি পোশাক বেছে নিতে চাইছেন সকলেই। চলছে দরাদরিও। নিউ মার্কেটের পোশাক বিক্রেতা সুমন্ত নন্দন জানালেন, ‘‌এখন ক্রেতাদের পছন্দ পাল্টাচ্ছে। পছন্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরামদায়ক অথচ হাল ফ্যাশনের পোশাক রাখতে হচ্ছে। আবার খেয়াল রাখতে হচ্ছে দামের দিকেও। তবে মোটের ওপর কেনাবেচা খারাপ হচ্ছে না।’‌
সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইলের নোটিফিকেশনে চোখ গেল মোহনার। তিন,
চারটে অনলাইন কেনাকাটার সাইটে শুরু হয়েছে ‘‌গ্র‌্যান্ড সেল’‌। আগের দিনই দোকানে, শপিংমলে ঘুরে এক প্রস্থ কেনাকাটা হয়েছে আবার অনলাইনে কিনলে মা–এর বকুনি শুরু হবে। অর্থাৎ জমানো পকেটমানিকে কাজে লাগানোর সময় এসে গেছে। আর যাই হোক গ্র‌্যান্ড সেল–এর সুযোগ হাতছাড়া করা যায় না। ইন্দো–ওয়েস্টার্ন পোশাকের সম্ভারে নিজেদের বাজার জমিয়ে রেখেছে অনলাইন সাইটগুলিও।
তবে শাড়ি কিনতে হলে মহিলারা হাতে নিয়ে দেখে কিনতেই বেশি পছন্দ করেন। তাই ছোট থেকে বড় শাড়ির দোকানে মলমল, হ্যান্ডলুম, কেরালা কটন বেছে নিতে ভিড় জমাচ্ছেন মহিলারা। শ্যামবাজারের তন্তুজেও দৃশ্য একই রকমের। এক কর্মীর কথায়, ‘‌বিক্রিবাটা খুবই ভাল হচ্ছে। দুপুরেই ক্রেতাদের লম্বা লাইন। এই রকমই থাকে সন্ধে পর্যন্ত।’‌ অন্যদিকে ছোট ঝুলের সুতির কুর্তা ছেলেদের বেশ পছন্দ। সাবেকি পাঞ্জাবির দোকানগুলিতে গিয়ে এখন এই কুর্তাই দেখতে চাইছেন তাঁরা। নিয়মিত অফিস যেতে হলে শপিংমলে ঝুলিয়ে রাখা ফর্মাল শার্ট বেছে নিচ্ছেন দেখেশুনে। নামীদামি জুতো তৈরির সংস্থাগুলিও খোলা রেখেছে ছাড়ের সুযোগ। বছরের শুরুতে ঘর সাজাতে পছন্দ করেন অনেকেই। তাই বিছানার চাদর, কভার, বালিশের কভার, ফুলদানি, উইন্ড চাইমস, ওয়ালম্যাট খেঁাজেন। কেউ–‌বা নতুন কুশনে সাজিয়ে নিতে চান সোফাসেট। যদিও এগুলির সব কিছুতে ছাড় পাওয়া যায় না। তবে গড়িয়াহাট বা হাতিবাগানের মতো খোলা বাজারগুলিতে এই সময় শয্যার সাজ পাওয়া যায় বেশ কিছুটা কম দামে। বম্বে ডাইংয়ের শাখাগুলিতে চলছে বাছাবাছির পালা। জয়পুর প্রিন্টের বিছানার কভারে ছাড় দিয়ে রেখেছে অনলাইন কিছু সাইট। ছাড়ের আওতায় এসেছে সুগন্ধী, ব্যাগ, বেল্টও। ‌‌