আসানসোলে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত ? তার সঙ্গে বাড়ছে আতঙ্ক !

1
110

হরি ঘোষ, আসানসোল: শিল্পাঞ্চলে কি মরন ভাইরাস করোনা থাবা বসাচ্ছে? সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি ঘটনা শিল্পাঞ্চলবাসীকে চিন্তায় ফেলেছে । প্রশাসন অতিরিক্ত গোপনীয়তা রাখতে গিয়ে কি আরও বেশি আতঙ্কিত আসানসোল দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দারা? দেশজুড়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ যখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, তখন আসানসোল দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের একের পর এক ঘটনা শিল্পাঞ্চলবাসীদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। শুক্রবার আসানসোল এবং অন্ডালের দুটি ঘটনা মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

সবার মনে একটাই প্রশ্ন তবে কি করোণার আক্রান্ত সংখ্যা শিল্পাঞ্চলে বাড়ছে ?সূত্রের খবর দুর্গাপুরে একটি নামী বেসরকারি নার্সিংহোমে বুকে ব্যথা এবং জ্বর নিয়ে দুদিন আগে ভর্তি হয়েছিলেন আসানসোল উত্তর থানার অন্তর্গত নয়া মহল্লার বছর ৭৫’র একজন হাতুড়ে ডাক্তার। ওই নার্সিংহোম সূত্রের খবর গতকাল রাত্রি নটা নাগাদ কলকাতা থেকে যে রিপোর্ট এসেছিল তাতে ওই বৃদ্ধার রক্তে করোনা পজিটিভ মিলেছে ।এরপরই তাকে কাঁকসা থানা করোনা হসপিটালে পাঠানো হয় বলে নার্সিংহোম সূত্রের খবর।সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে সূত্রের খবর । এই ঘটনায় ওই বেসরকারি নার্সিংহোমের দুই চিকিৎসক সহ ২৭ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়ে দেয় প্রশাসন। যদিও এই বিষয় নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন সরকারি বিবৃতি পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে আজ সকালে দুর্গাপুরের অন্ডালের কুলডাঙ্গার  একটি পরিবারকে ঘরের মধ্যে থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রের খবর ।ওই পরিবারের প্রবীণ সদস্য প্রবল শ্বাসকষ্ট নিয়ে ৬ তারিখে কলকাতার একটি বেসরকারি হসপিটালে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু গতকাল তাকে বেলেঘাটা আইডি হসপিটাল স্থানান্তরিত করা হয়। পাশাপাশি আজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার পরিবারের লোকজনের বাড়ি ভিতরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ।স্থানীয়রা অনুমান করেন যে ওই প্রবীণ ব্যক্তির করোনা সংক্রমণ হয়েছে ।যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় কিছু শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য ওই প্রবীণ ব্যক্তিকে বেলিয়াঘাটা আইডিতে স্থানান্তর করা হয়েছে । তাছাড়াও গত ৬ তারিখ কর্মসূত্রে আসানসোলে থাকা বিহারের সত্যনারায়ন এলাকার বাসিন্দা এক ব্যক্তিকে দুর্গাপুরের মলানদিঘি করোনা হসপিটালে ভর্তি করানো হয়েছিল। সেক্ষেত্রেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে এলাকাজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক এতটাই গ্রাস করেছে যে কোন কিছুই ঘটলেই খুব সহজেই এলাকায় একটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে ।এর জন্য অবশ্য প্রশাসনের একাংশকে দায়ী করছেন কিছু মানুষ । সূত্রের খবর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে করা হয়েছে তাছাড়াও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় স্প্রে মেশিনের সাহায্যে স্প্রে করা হচ্ছে। কিন্তু আতঙ্কিত মানুষরা প্রশাসনের এই অতি সক্রিয়তা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন বলে অনেকেই দাবি করছেন।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here