রাজেশ লাকড়াকে বিশেষ নিরাপত্তা

0
188

সুদীপ ব্যানার্জী, আলিপুরদুয়ারঃ গোর্খাদের চিরাচরিত ঐতিহ্য তাঁরা সঙ্গে খুকরি রাখতে পারেন। গোর্খাদের মতো আদিবাসীদেরও ঐতিহ্য সঙ্গে তীর -ধনুক রাখা। সেই ঐতিহ্য মেনে আলিপুরদুয়ার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির নেতা রাজেশ লাকড়া তীর ধনুক ওয়ালা আদিবাসীদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করছে। যা নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এভাবে নিরাপত্তার প্রয়োজনে আদিবাসিদের ব্যাবহারকে বেআইনি বলে পুলিশি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে বিজেপি। তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই তৃণমূল নেতার অভিনব নিরাপত্তার ব্যাবস্থাকে সমর্থন জানিয়েছে। পুলিশি নিরাপত্তার বদলে নিজেদের ঐতিহ্য তীর-ধনুকের উপরেই বেশি ভরসা রাখছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের আলিপুরদুয়ার জেলা কোর কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রাজেশ লাকড়া। রাজেশবাবু তাই জেলায় রাতবিরেতে কোথাও গেলে রাজেশবাবুকে সর্বক্ষণ ঘিরে রাখছেন তীর-ধনুকধারী বেশ কয়েকজন আদিবাসী যুবক। বিষয়টিকে দলও মান্যতা দিয়েছে। কে এই রাজেশ লাকড়া? যার নিরাপত্তা রক্ষীদের নিয়ে হইচই পড়ে গেছে।
অতীত ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে আদিবাসী বিকাশ পরিষদের নেতা রাজেশবাবু একসময় বিজেপির সংসদ সদস্য জন বারলার ঘনিষ্ঠ ছিলেন। জন বার্লাও তখন আদিবাসী বিকাশ পরিষদের নেতা ছিলেন। কিন্তু উত্তপ্ত পৃথক গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের সময় জন বার্লা বিমল গুরুংদের সমর্থন করলেও রাজেশ লাকড়া তাঁর বিরোধিতা করেন।
তারপরে রাজেশবাবু ভারতীয় মূল নিবাসী আদিবাসী বিকাশ পরিষদ গঠন করেন। সম্প্রতি তিনি কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। তৃণমূলে যোগ দিয়েই দলের আলিপুরদুয়ার জেলা কোর কমিটির সদস্যপদ লাভ করেন। রাজেশবাবু প্রকৃতপক্ষে জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাটের লক্ষ্মীপাড়া চা বাগানের বাসিন্দা। গেরুয়া শিবিরের সাংসদ জন বারলাও একই চা বাগানের বাসিন্দা।
আর তৃণমূলের দাপুটে এই নেতাকে সর্বক্ষন এখন ঘিরে থাকছে তীর ধনুকধারি কয়েকজন আদিবাসী যুবক। রাজেশ বাবু অবশ্য এতে ভুল কিছু দেখছেন না। এবিষয়ে জেলার পুলিস প্রশাসনের কর্তারা অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটেছেন।
পুলিশ কিছু বলতে না চাইলেও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জেলার বিজেপি নেতারা।বিজেপি পুলিশি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের আদিবাসী নেতা রাজেশ লাকড়া বলেন “আমাদের এটা ঐতিহ্য। আমরা অন্যান্য হাতিয়ারের থেকে এই হাতিয়ারকেই আমরা বেশী বিশ্বাস যোগ্য মনেকরি।
অন্যদিকে জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সুমন কাঞ্জিলাল বলেন “যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু নেতাকে দেখা যাচ্ছে তীর -ধনুক নিয়ে নিরাপত্তা রক্ষী হিসাবে কিছু আদিবাসী যুবককে কাজে লাগাচ্ছে।পুলিশ প্রশাসনকে এই বিষয় নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ। এটা অস্ত্র আইনের মধ্যে পরে।”