মাটির প্রতিমা থেকে কাগজের দূর্গা বানাতে ব্যস্ত শ্যামসুন্দর

0
181

দিগবিজয় মাহালী, স্টাফ রিপোর্টারঃ অতিমারীর করাল ছায়ায় বিদ্ধস্ত সমাজ জীবন । বাঙালির সেরা উৎসবের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবাই যখন আশঙ্কিত তখনই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর এখন শহরের অলিতে গলিতে গ্রামের আনাচে কানাচে সাজোসাজো রব । গণমাধ্যমে বিশিষ্টজনেদের শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার ঘনঘন সাবধানবাণী প্রচারিত হচ্ছে । অনেকেই সেই নির্দেশ মেনে ঘরে থেকেই দেবীবন্দনাতেই ব্যস্ত থাকবেন স্থির করে ফেলেছেন ।

সবং-এর বেনেদিঘী জনকল্যাণ হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র শ্যামসুন্দর দাস অধিকারীও নিজের হাতে মাতৃপ্রতিমা গড়ে নিজেই পুজো করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন । তেমাথানীর বিবেক নগরের সেঁজুতি-তে এখন সাজসাজ রব । পিতা অরিজিৎ দাস অধিকারী আশাপুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তথা ভারত সরকারের সি.সি.আর.টি.-এর জেলায় কর্মরত । মা লতিকা গৃহবধূ । বাবার সাথে তিন জেলার বিভিন্ন ব্লকে নানান সাস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছে শ্যাম ।

আবৃত্তিতে রেডিওর গল্পদাদুর আসরের শিল্পী সে , গানে-কবিতায় ব্লকযুব উৎসবে ধারাবাহিক সাফল্যে বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্মদিন পালন উপলক্ষে মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি আয়োজিত অনলাইন প্রতিযোগীতায় চারটি বিভাগে প্রথম ও দুটি বিভাগে দ্বিতীয় হয়ে রাজ্য প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে রাজ্যে একটি বিভাগে সাফল্য পেয়েছে । কিন্তু হঠাৎ মূর্তি তৈরী কেন ? মামা আকাশ চন্দ্র জানা ছিলেন একজন কীর্ত্তন গায়ক । মামার কাজ একমনে দেখতো শ্যাম । মামাকে দেখে মাটির মূর্তি কয়েকবার গড়লেও কাগজের দূর্গা এই প্রথম ।

গতবছর কলকাতার রাণী রাসমনীর বাড়ির প্রতিমা দেখে মুগ্ধ হয় সে, সেই অনুকরণেই গড়ে চলেছে কাগজের মহামায়া । একঘেঁয়েমি গৃহবন্দী জীবনে কবিতা-গল্পে-গান-পটচিত্র-নাটকের সাথে নানান ধরনের হাতের কাজের মধ্য দিয়ে আনন্দ খুঁজে চলেছে শ্যাম । দেড় ফুট বাই দেড় ফুটের সাবেকি একচালার প্রতিমা । থিমের প্রতিমা ওকে একদম টানেই না, সাবেকিতেই সাবলীল । লক্ষী, সরস্বতী, কার্ত্তিক, গণেশ ও তাদের বাহনসহ সিংহ – মহিষতো আছেই, আছে সুন্দর চালচিত্রও । সেই চালচিত্রে আছেন ব্রহ্মা – বিষ্ণু-মহেশ্বর , উমার কোলে গণেশ ও কার্ত্তিক, শ্রীকৃষ্ণ , নারদমুনি ও প্রাকৃতিক দৃশ্য । আর্টপেপার, আঠা, রং-তুলি, থার্মোকলের প্লেট, ট্রেসিং পেপার, নিজের জামার প্যকিং বাক্স, রাংতা ইত্যাদি অতি সাধারণ দ্রব্য নিয়ে গড়ে চলেছ সে । ডাকের সাজ বানিয়েছে থার্মোকলের প্লেট কেটেই । মা লতিকা জানান,” ছোট থেকেই পাড়ায় ছোটদের নিয়ে নানান পুজোতে মেতে উঠত । ঠাকুর দেবতা ও প্রাচীন পুরাকীর্তি ওকে বেশি টানে। তবে কাগজের প্রতিমা আমিও প্রথম দেখলাম । আমি চাই সবার আশিষে ও মানুষ হোক । ” সাহড়দা কালীপদ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক’ ‘ শিক্ষারত্ন ‘ অজিত কুমার সামন্ত খুব ছোটথেকেই শ্যমের কৃষ্টি দেখছেন, তিনি জানান-“শ্যামের এই বিভিন্ন বিকাশে সৃষ্টি ও ভালোবাসা থাকে । এই ধারাতে ওকে এগিয়ে দিতে আমাদের সবাইকে সাহায্য করতেই হবে । ওর মতো ছোটদের উৎসাহিত করতে সাজের সর্বস্তরের পূর্ণ সহযোগিতা কাম্য । কতো প্রতিভাই সমাজের যথাযথ সহযোগিতা না পেয়ে হারিয়ে যায়। শ্যামের সাথে আমি থাকবোই ।” ছোট্ট শ্যাম তার প্রতিমার শেষটান দিতে দিতে জানায় সে বড় হয়ে শান্তিনিকেতনেই পড়তে চায় । মা বাবা ও পরিজনেরা আমার কাজে প্রথমে বাঁধা দিয়েছিলেন, তবে আমার মামাদের পূর্ণ সমর্থন ছিল । সবার আশীর্বাদ নিয়ে আমি মানুষ হতেই চাই । নতুন কিছু করতে ও গড়তে আমার বেশ লাগে । বাবাও চান ছেলের আপন প্রতিভায় বিকাশের একটা সুন্দর জায়গা পাক, মানুষ হয়ে উঠুক আদরের শ্যামসুন্দর ।




আরও খবরঃ https://anmnews.in/?p=120306 / https://anmnews.in/?p=120292