পড়ুন সরস্বতীর “দুর্গা আরাধনা”র কাহিনি

0
206

বনমালী ষন্নিগ্রহী, বাঁকুড়াঃ এ এক ব্যতিক্রমী কাহিনী। এই কাহিনী এক সরস্বতীর দুর্গা আরাধনার। বাঁকুড়ার জঙ্গল মহলের প্রত্যন্ত এলাকা রানিবাঁধ বিধানসভার আদিবাসী মহিলা সরস্বতী হাঁসদার দেবী দুর্গা আরাধনার কাহিনী। তাঁর বিশ্বাস শুধুমাত্র বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণেরই মায়ের দেখা পাওয়া যায় না, হৃদয়ের আহ্বানেও সাড়া দিয়ে মা দেখা দেন ভক্তকে। তাঁর কাছে কোন বিভেদ নেই। হিড়বাঁধের দোমহানি গ্রামের বাসিন্দা সরস্বতী হাঁসদা। তাঁর দাবী, মা দুর্গা তাঁকে স্বপ্নে বলে ছিলেন, “আমার পুজো করতে হবে”। তবে পুজো করাটা এত সহজ ছিল না। নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই এবার পুজো শুরু করেন ওই আদিবাসী রমণী।

শুরুটা হয়েছিল আজ থেকে ১৮ বছর আগে। প্রথম দিকে আদিবাসীদের দুর্গাপুজো করা যাবে না বলে তাঁদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন আদিবাসী সমাজের একাংশ, এমনটাই দাবি সরস্বতী হাঁসদার। সেই বিরোধিতায় থেমে থাকেননি সরস্বতী। পুজো করার সহযোগিতা চেয়ে হিড়বাঁধ থানার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। পুলিশের আশ্বাস পেয়ে পুজো শুরু করেছিলেন। সরস্বতীদেবীর প্রতিষ্ঠিত ওই পুজোর এবারের অন্যতম কান্ডারি তার ভাগ্নে রবিলোচন হেমব্রম জানান – “সপ্তমিতে মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হয় প্রতিমা। আগের বছরের পুরাতন প্রতিমা পাশে সরিয়ে রাখা হয় কাপড় দিয়ে ঢেকে। বিজয়ার পর দিন পুরাতন প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। নতুন প্রতিমা বছর ভর রেখে দেওয়া হয়। তাতে নিত্য দু’বেলা পুজো করতে হয়”।

এই পুজোর বিশিষ্টতা হলো যে কোনও পুরোহিত দিয়ে এই পুজো হয় না। সরস্বতী হাঁসদা নিজে পুজো করেন সম্পূর্ণ বৈষ্ণব মতে। রবিবাবুর আক্ষেপ এটাই যে বিভিন্ন পুজো কমিটিগুলি সরকারি আর্থিক সাহায্য পেলেও এত বছরেও তারা কোনরকম সাহায্য পায়নি।





আরো পোস্ট-https://anmnews.in/?p=118892

https://anmnews.in/?p=118875

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here